বাংলাদেশ ও হ্যাকিং ॥
# **বাংলাদেশ ও হ্যাকিং**
বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিলো ২০১৬ সালে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রায় **১ বিলিয়ন** ডলার হ্যাক করা হয়েছিলো। হ্যাকাররা ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলো শ্রীলঙ্কায় এবং ৮১ মিলিয়ন পাঠিয়েছিলো ফিলিপাইনে।
হ্যাকার অবশ্যই নিজের দেশে টাকা পাঠাবে না। আর, সাইবার অপরাধ জগতের একটি নিয়ম হচ্ছে- **যেই দেশে সাইবার আক্রমণ করা হবে, সেই দেশের কাউকে না কাউকে নিজের দলে নিয়ে তার থেকে সাহায্য নেওয়া।**
আবার, অনেক সময় ব্যাংক হ্যাকিং এর সার্ভিস দিতে ও নিতে দেখা যায় ডার্ক ওয়েবে। ডার্ক ওয়েবে বলা হয়ে থাকে- **উত্তর কোরিয়া** নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির টাকা যোগাড় করতে ব্যাংক হ্যাকিং এর আশ্রয় নিয়ে থাকে। যদিও এর সত্য-মিথ্যা আমি জানি না। তবে, আশ্চর্যজনকভাবে এই হ্যাকিং সম্বন্ধে আমি যখন Wikipedia তে লেখা পড়ছিলাম তখন দেখতে পেলাম- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তেও উত্তর কোরিয়াকেই সন্দেহ করা হয়েছিলো।
এই ব্যাংক হ্যাকিং নিয়ে অনেক কিছুই আন্দাজ করা যায়। তবে, আন্দাজ করা গেলেও এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায় নি বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাক করা সেই অপরাধী গ্রুপকে। এমনকি এর আগে **সোনালী ব্যাংকও** হ্যাকিং এর স্বীকার হয়েছিলো। সেক্ষেত্রেও সাইবার অপরাধীদেরকে শনাক্ত করা যায় নি আজও। এটা রয়ে গেলো ইতিহাস হয়ে। তবে, ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব ভবিষ্যতে।
এভাবে ব্যাংক হ্যাকিং এর স্বীকার হওয়া থেকে আমাদেরকে শিক্ষা নিতে হবে। এদেশে অনেক ছোটখাটো হ্যাকার রয়েছে যারা-
* অন্যের একাউন্ট হ্যাক করে টাকা দাবী করে নিজের bKash নাম্বার দিয়ে হাতে-নাতে ধরা পড়েছে।
* আবার, কেউ কেউ চুরি হওয়া মোবাইলের IMEI NO. পরিবর্তন করার কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়েছে।
তাহলে কি আমরা সামগ্রিক দেশ এবং একক নাগরিক উভয় দিক দিয়েই সাইবার জগতে দুর্বল? **না,** দেশের অন্যান্য দিকের সাথে তুলনা করলে সাইবার জগতে আমরা তুলনামূলক এগিয়ে যাচ্ছি। সাইবার জগতে আমাদের দেশের অনেক শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যারা আন্তর্জাতিক সাইবার জগতে ইর্ষণীয় ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের হ্যাকার **TiGER-M@TE** এর কথা সারা পৃথিবী শুনেছে। তিনি Google, Yahoo, Avast, Microsoft, Bing, Nokia ইত্যাদির লোকাল ডোমেইন সহ ৭০০০,০০০ টি site হ্যাক করেছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১১ সালে। এমনকি, আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে- বাংলাদেশি এই হ্যাকার একাই হ্যাকিং করেছিলেন।
সাইবার জগতকে যতোটা রহস্যময় লাগে, বাস্তবে এটি তার চাইতেও বেশি রহস্যময়। আর, সেই রহস্যে ঘেরা জগতে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রতিযোগিতাই চলছে বিশ্বময়। সেই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক, এটাই কামনা।
Comments
Post a Comment